মাত্র ২৬ সপ্তাহ বয়সী শিশুর প্রসব সম্পন্ন করে চমৎকার করলেন ডাক্তাররা

By

মাত্র ২৬ সপ্তাহ বয়সী শিশুর প্রসব সম্পন্ন করে চমৎকার করলেন ডাক্তাররা


সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ সপ্তাহ সময় কাটাতে হয় মা-এর ভ্রূণে,তারপর সম্ভব হয় সাধারন ডেলিভারী।এই ক্ষেত্রে তার বহু আগে অর্থাৎ মাত্র ২৬ সপ্তাহে শিশু প্রসব করালেন ডাক্তাররা।এটি কল্পনার ও অতীত।এই ঘটনা বাস্তব এ সম্ভব বলে কেউই বিশ্বাস করতে পারে না।কিন্তু এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখালেন ৮জনের এই চিকিত্সক টীম।
বর্ধমানের প্রসূতি স্বাগতা ঘোষ পাঁজা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর স্বামী কাজ করেন আমেরিকায়। প্রসবের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই গর্ভস্থ ভ্রূণের বয়স যখন মাত্র ২৬ সপ্তাহ, তখনই আচমকা প্রসব-যন্ত্রণা ওঠে স্বাগতার। ওয়াটার ব্রেক করে হঠাৎ। ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে পড়ে স্বাগতার পরিবার। বর্ধমানের যে স্ত্রীরোগ-বিশেষজ্ঞ স্বাগতাকে দেখছিলেন, তিনি একটি হাসপাতালে রেফার করে দেন স্বাগতাকে।
বর্ধমানেরই একটি বেসরকারি শিশু হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে চিকিৎসকেরা জানান, স্বাগতার পেটের শিশুটিকে বাঁচানো কার্যত অসম্ভব। কোনওরকমে মায়ের প্রাণ বাঁচতে পারে। শিশুকে রাখতে গেলে মায়ের অবস্থাও সঙ্কটজনক হবে। স্বাগতার পরিবার সবটাই ছেড়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকদের উপরেই।
তবে চিকিত্সকদের কাছেও এ এক অসম্ভব ব্যাপার ছিল।কিন্তু তারা হার মানতে রাজি ছিলেন না।সঙ্গে সঙ্গে তৈরী হল ৮দক্ষ চিকিত্সকের টীম।অনেক প্রচেষ্টা চালানোর পর সুস্থ অবস্থায় শিশুকে বের করে আনলেন।তখন তার ওজোন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম।এমত অবস্থায় বাচ্চার প্রাণ বাচানো তাদের কাছে অসম্ভবের থেকে কম কিছু নয়।তবে তারা চেষ্টা ছাড়লেন না।
ইনকিউবেটরে কৃত্রিম সাপোর্ট দিয়ে তাকে তিলে তিলে বড় করেন তাঁরা। দীর্ঘ দু’মাস ধরে এই নতুন প্রাণকে টিকিয়ে রেখে চিকিৎসক আশরাফুল মির্জা জানিয়েছেন, আর তার প্রাণসংশয় নেই। তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ-ও পরিণত হচ্ছে স্বাভাবিক ভাবেই। যদিও এখনও চিকিৎসা চলবে বেশ কিছু দিন। তবে শিশুটি এখন নিরাপদে আছে। সে এখন তৈরি, বাবা-মায়ের সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার জন্য।

Source

চিকিত্সার ক্ষেত্রে সকলে সবসময় কলকাতার কোনো ডাক্তার বা কলকাতার কোনো হাসপাতাল কেই বেছে নেন।তবে বর্ধমানের মতো জায়গার কোনো হাসপাতাল ডাক্তাররা মিলে এই অসাধ্য সাধন করেছেন তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।সারা দেশের ডাক্তাররা এই ঘটনার প্রশংসা করেছেন।

You Might Like These

Leave a Comment