দূর্গা প্রতিমা তৈরী করতে কেনো লাগে নিসিদ্ধপল্লির মাটি?

By

দূর্গা প্রতিমা তৈরী করতে কেনো লাগে নিসিদ্ধপল্লির মাটি?


দূর্গাপুজো বাঙালির শ্রেষ্ঠ পুজো।পুজোর ২-৩ মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি বাঙালির ঘরে ঘরে।পাশাপাশি তৈরি হতে থাকে প্যান্ডেল কতৃপক্ষ এবং কুমোরটুলি-র ঠাকুর প্রস্তুতকারকরা ও।এই ঠাকুর প্রস্তুত করার সময় একজন শিল্পী তার সমস্ত আবেগ ঢেলে দেন মায়ের মূর্তির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার জন্য।তার রাতের পর রাত অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই মায়ের মুখে এক আলাদা মাধুর্য ফুটে ওঠে।এই মায়ের মূর্তি বানানোর জন্যে যদিও কিছু বিশেষ উপকরণ লাগে।আসুন জেনে নি সেগুলো কী
পবিত্রতার প্রতিমূর্তি মা দুর্গার মূর্তি তৈরি করতে প্রথমেই লাগে বিশেষ কিছু জায়গার মাটি। রাজবাড়ির মাটি, চৌমাথার মাটি, গঙ্গার দুই তীরের মাটি ও  তথাকথিত ‘অশুচি’ এলাকা নিষিদ্ধপল্লীর মাটি৷ এর সঙ্গে লাগে গাভীর মূত্র, গোবর, ধানের শিস, পবিত্র গঙ্গার জল।
পুজোর কয়েক মাস আগে থেকেই মৃৎশিল্পীরা বিভিন্নভাবে যোগাড় করতে শুরু করেন এই সমস্ত উপাদানগুলি। নিষিদ্ধপল্লীতে থাকা বারাঙ্গনার ঘরের দরজার বাইরে থেকে মাটি সংগ্রহ করা হয় এবং এই আচার পালন করা হয়ে চলেছে  প্রাচীন কাল থেকে।
এবার এই নিষিদ্ধ পল্লী শব্দটা শুনেই অনেকে হয়ত অসঙ্কোচ করবেন।তাহলে তাদের কিছু ইতিহাস জানিয়ে রাখি।

বহু প্রাচীন যুগে পুরোহিত-আচার্য রা মনে করতেন পতিত এলাকার নারীরা আমাদের সমাজের জন্যে অভিশাপ একদমই নয়।আমাদের সমাজকে তারা কলুষিত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করছে।পুরুষ মানুষ এর শরীরের প্রতি লালসা মেটানোর জন্যে তারা নিজে বিষপান করছেন বলে তারা মনে করতেন।
কিন্তু তখনকার পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তাদের এই ধ্যানধারণা লোক কে বোঝাতে চাওয়া মানে মৃত্যুকে নিমন্ত্রণ জানানো।তাই তারা পুজোর নিয়মাবলী তে এমনভাবে তাদের বক্তব্যকে লুকিয়ে রেখেছিলেন যে আজও মূর্তি প্রতিমা প্রস্তুত করতে হলেই ভোরবেলা গিয়ে মৃত্শিল্পীরা গিয়ে পতিত এলাকার মাটি বিশুদ্ধ ভাবে সংগ্রহ করতে হয়।যাতে মা দূর্গার মৃন্ময়ী রূপে প্রত্যেক পতিত নারীর আব্রু মেশানো থাকে।তারাও জেনো দেবী দূর্গার শরীরে নিজেদের স্পর্শ অনুভব করতে পারে।

You Might Like These

Leave a Comment